লাভ-ক্ষতির বিপিএল

ক্রিকেটীয় কিংবা আর্থিক কোন বিচারেই কি বিপিএল লাভজনক? জম্পেশ বিতর্কের অবারিত সুযোগ। বিপিএলের প্রথম দুই আসর নিয়ে ওঠা অনেক প্রশ্নের কারনে এক মৌসুম বিরতি দিয়ে হয় আরেক আসর। আর এখন চলছে চতুর্থ বিপিএল। মাঠের ক্রিকেট, তারকার উপস্থিতি, মানুষের আগ্রহ সব বিচারের প্রথম দুই বিপিএল যতটা গ্ল্যামারাস ছিল, পরের দুই আসর তার ধারে কাছেও নেই।

এখনো বাড়ানো যায়নি হোম অ্যান্ড আওয়ে পদ্ধতি। টানা ম্যাচ খেলার ধকলে বাড়ছে ইনজুরি, হচ্ছে মিস ফিল্ডিং, পড়ছে ক্যাচ। তাও মানা যেত যদি ভাল মানের বিদেশী ক্রিকেটার থাকত প্রতিটি দলে। তাহলে স্থানীয় খেলোয়াড়রা নামী তারকাদের সঙ্গে ড্রেসিংরুম শেয়ার করে উপকার পেতেন। কিন্তু তাকিয়ে দেখুন তো চলতি বিপিএলে সেই সুযোগ আছে কতটুকু?

আফ্রিদী-শোয়েব মালিকরা কখন এলেন কখন গেলেন টের পাওয়া যায় না। গেইল এসেছেন মাত্র কয়েক ম্যাচের জন্য। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে পরিচিত তেমন কোন মুখ আসেননি। ভারত থেকে তো কখনোই আসে না। সবমিলে বিপিএলে খেলোয়াড় মান নিয়ে প্রশ্ন দিন দিন বাড়ছে। আম্পায়ারিং ভাল তো হয়নি, বরং কখনো কখনো যাচ্ছে-তাই মানে গেছে। দর্শক উপস্থিতি চুড়ান্তভাবে হতাশ করেছে সবাইকে। নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি না পেয়ে বোর্ডে থাকা মানুষদের কাছেই গেছে মালিকানা। সবমিলে বিপিএল-কে সফল বলার কোন উপায়ই থাকছে না।

সামনে নিউজিল্যান্ডে কঠিন এক সফর। পরপরই ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক এক টেস্টের সিরিজ। এরপর মার্চে শ্রীলঙ্কায় মাসব্যাপী পূর্ণাঙ্গ সফর। এমন ব্যস্ত সূচীর আগে টানা বিপিএলের ধকলও ক্রিকেটারদের সমস্যায় ফেলছে। হয় বাড়াতে হবে বিপিএলের গ্ল্যামার, নইলে এমন আসরের টিকে থাকা পড়বে হুমকির মুখে।

সিদ্ধান্ত নিতে হবে বিসিবিকেই!

 

রাকিবুল হাসান

উপদেষ্টা, স্পোর্টস অলটাইম ডটকম

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন