লওরির জন্য ভালোবাসা

না ফেরার দেশে চলে গেলেন ছয় বছরের শিশু ব্র্যাডলি লওরি। ক্যান্সারে ভুগতে থাকা এই দেবশিশুটি গত এক বছরে নিয়মিতই মাঠে নেমেছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে, প্রিয় ফুটবল তারকার হাত ধরে। লওরির সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয় খেলোয়াড়, সমর্থক সবার।

ভুবনভুলানো হাসি দিয়ে সবার মন জয় কোরে নেয় সে। কেমোথ্যারাপির কারণে চুল, দাঁত পড়ে গেলেও তার মুখ থেকে হাসি সরেনি কখনো।

2

জন্ম ২০১১ সালে। মাত্র আঠারো মাস বয়সে ধরা পড়ে নিউরোব্লাস্টোমা নামের দুরারোগ্য ক্যান্সার। চিকিৎসা চালতে থাকে। তিন বছর বয়সে, লওরির ভালোবাসা শুরু ফুটবলের সঙ্গে। টেলিভিশনে খেলা দেখে সে হয়ে যায় সান্ডারল্যান্ড ফুটবল দলের সমর্থক। ক্লাবটির ফরোয়ার্ড জার্মেইন ডেফো হয়ে ওঠে তার প্রিয় ফুটবলার।

প্রিয় ক্লাবের খেলা সামনে থেকে দেখতে লওরিকে নিয়ে নিয়মিত মাঠে যাওয়া শুরু করেন তার মা। ক্যান্সার আক্রান্ত এই শিশুর ফুটবল পাগলামির কথা জানতে পারে সান্ডারল্যান্ড কর্তৃপক্ষ। ২০১৬ সালে এভারটনের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ড্রেসিংরুমে প্রিয় তারকা ডেফোর সঙ্গে দেখা করার ব্যবস্থা করে তারা। শুরু হয় ডেফো ও লওরির বন্ধুত্ব, একইসঙ্গে তার ভালোবাসা শুরু হয় ফুটবল সমর্থকদের সঙ্গে।

বিভিন্ন ম্যাচে তাকে নিয়ে মাঠে নামতে শুরু করে সান্ডারল্যান্ড। ইংল্যান্ডের ফুটবল অঙ্গনে সে হয়ে যায় সর্বজনীন। দল নেই, বর্ণ নেই; সবাই তার সমর্থক। গেলো বছর চেলসির বিপক্ষে ম্যাচের আগে ড্রেসিং রুমে ব্লু  তারকারা তাকে উপহার দেয় সবার সই করা একটি জার্সি।

সেদিন বিরতির সময় মাঠে নেমেছিল লওরি। পেনাল্টি থেকে একটি গোলও করেছিল। চেলসির রিজার্ভ গোলকিপার বেগোভিচ ডাইভ দিয়েছিলেন উল্টোদিকে। হয়তো ইচ্ছা করেই। কিন্তু এটিকেই গোল অফ দ্যা মান্থ ঘোষণা করা হয়।

1

মৃত্যু আলিঙ্গনের আগে সবাই ছোট্ট লওরিকে খুশি রাখার চেষ্টা করে যায় প্রাণপণ। আন্তর্জাতিক ম্যাচেও তাকে নিয়ে মাঠে নামে ইংল্যান্ড জাতীয় দল।

গত জানুয়ারিতে ডাক্তাররাও জানিয়ে দেয় আর বেশিদিন নেই। দ্রুত কমে আসছে ব্র্যাডলির আয়ু।

ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জিততে পারেনি ছোট্ট লওরি। ৭ই জুলাই, ২০১৭- ছয় বছর বয়সে সে চলে যায় না ফেরার দেশে। তার চিকিৎসার জন্য সংগৃহীত অর্থের যেসব বাকি আছে, সেসব এখন যাবে ব্র্যাড লওরি ফাউন্ডেশনে। অন্য কোনো লওরি, যে লড়াই করছে এভাবে, তার জন্য ব্যয় করা হবে তা। হয়তো লওরির সেই ছোট্ট মুখের নিস্পাপ হাসি থেকে অনুপ্রেরণা পাবে অন্য কেউ।

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন