রিয়াল মাদ্রিদ চ্যাম্পিয়ন, রোনালদো ম্যাচ সেরা

ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়ন জুভেন্টাসকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা ধরে রাখল রিয়াল মাদ্রিদ। আর এই নিয়ে ৫ বার চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল হার দিয়েই শেষ করল জুভেন্টাস।

চ্যাম্পিয়নস লিগে এই মৌসুমের সর্বোচ্চ গোল দেয়া দল ছিলো রিয়াল মাদ্রিদ। আর সবচেয়ে কম গোল খাওয়া দল ছিলো জুভেন্টা। কার্ডিফের ফাইনালে মুখোমুখি হয় তারা।

গোটা মৌসুমে মাত্র তিন গোল হজম করা জুভেন্টাসের জালে এক রাতেই চার বার বল ঢুকিয়ে দিয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বটাই নতুন করে জানান দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।

লস ব্ল্যাংকোসদের ইতিহাস গড়ার দিনে রোনালদো নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্যন্য এক উচ্চতায়। ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগের তিন ফাইনালে গোলের দেখা পেলেন পর্তুগিজ উইঙ্গার। তাঁর জোড়া গোলেই নিশ্চিত হয়েছে রিয়ালের ইতিহাস গড়া! চ্যাম্পিয়নস লিগে এই মৌসুম রোনালদো শেষ করলেন ১২ গোল নিয়ে।

গ্যারেথ বেইলের শহর কার্ডিফে ম্যাচের ২০ মিনিটে রিয়ালকে এগিয়ে নেন সিআর সেভেন।

রোনালদোর ওই গোলের পর আক্রমণের ধার বাড়ায় জুভেন্টাস। গোল আসে ২৭ মিনিটে। তাও যে সে গোল নয়। আসরের ইতিহাসের অন্যতম দর্শনীয় একটি গোল করেন মারিও মাঞ্জুকিচ। তার চোখ ধাঁধানো সিজার কিক কেইলর নাভাসকে হতবাক করে দিয়ে ঢুকে যায় রিয়ালের জালে। ১-১ গোলে সমতায় ফেরে ম্যাচ।

প্রাণবন্ত এক প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই খেলার দখল রিয়ালের হাতে। সেই সুবাদে গোল আসে ৬১ মিনিটে। এক ভয়ঙ্কর সুন্দর মুহুর্তের জন্ম দিলেন কাসেমিরো। ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডারের দূরপাল্লার শট খেদিরার পায়ে লেগে ঢুকে গেল জালে!

২-১ গোলে এগিয়ে যাওয়ার মিনিট তিনেকের মধ্যেই রোনালদোর হাতেই নিশ্চিত হয়ে গেল রিয়ালের ইতিহাস গড়া!

তিন গোল হজমের পর বদলী হয়ে খেলতে নেমে দুই হলুদ কার্ড দেখে ৮৪ মিনিটে মাঠ ছাড়েন কুয়াদ্রাদোর। জুভেন্টাসের হতাশার গল্পটা অবশ্য শেষ পর্যন্ত লজ্জায় রূপ নেয়; চতুর্থ গোল হজম করে। ৯০ মিনিটে বদলী অ্যাসেনসিওর গোলে কার্ডিফ থেকে ভুলে যাওয়ার মতো এক রাতের স্মৃতিই সঙ্গী হয়েছে কিংবদন্তী বুফনের।

আর টানা দুবার রিয়ালকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতিয়ে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন রিয়াল কোচ জিনেদিন জিদান।

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন