ম্যাজিক্যাল মুরালি

ক্রিকেট ইতিহাসের এক ঐতিহাসিক দিন ২২ জুলাই। এই দিনটিতেই ৮০০ টেস্ট উইকেটের মালিক হন শ্রীলঙ্কার মুত্তিয়া মুরালিধরন।

২০১০ সাল। গল টেস্টে মুখোমুখি শ্রীলঙ্কা ও ভারত। কিংবদন্তী স্পিনার মুত্তিয়া মুরালিধরন আগেই জানিয়েছিলেন, এটিই হতে যাচ্ছে তার শেষ টেস্ট ম্যাচ। ঝুলিতে উইকেট সংখ্যা ৭৯২টি। ক্রিকেট ইতিহাসে কেউ যেটা পারেনি, সেই ৮০০ উইকেটের ম্যাজিক্যাল ফিগারে যেতে দরকার ৮টি উইকেট।

এক পর্যায়ে ভারতের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার জয়ের জন্য যখন দরকার হয় ১ উইকেট। আর তখন সেই ৮০০ উইকেট পেতে মুরালিরও দরকার পড়ে ১ উইকেট। অবশেষে এলো সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। নিজের ক্যারিয়ারের শেষ বলে উইকেট নিয়ে দলকে জয় এনে দিলেন মুরালি, সঙ্গে পৌঁছালেন ৮০০ উইকেটের মাইলফলকে।

বর্তমান সময়ের অনেক ব্যাটসম্যান এটা ভেবে স্বান্তনা পেতে পারেন যে, মুরালিধরনকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে না। ১৯৯২ সালে কলম্বোয় অস্ট্রিলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ দিয়ে আর্ন্তজাতিক ক্রিকেটে অভিষেক এই অফ স্পিনারের। এরপর থেকে একের পর এক চমক উপহার পেয়েছে বিশ্ব ক্রিকেট।

ক্যারিয়ারে যত অভিজ্ঞতা বেড়েছে ততই ব্যাটসম্যানদের জন্য দুশ্চিন্তার নাম হয়ে উঠেছিলেন মুরালি। ইংলিশ কন্ডিশনে যেখানে স্পিনারদের সাধারণত কিছুই করার থাকেনা। সেখানে যে কীর্তি গড়েছেন মুরালি তা এখনো কেউ টপকাতে পারেননি। ১৯৯৮ সালে ওভালে এক ম্যাচে ১৬ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের মাটিতে প্রথমবারের মতো লঙ্কানদের টেস্ট জয়ের নায়ক তিনি।

কিন্তু যখন দুসরা ডেলিভারি শুরু করলেন তখনই শুরু হলো বিপত্তি। একবারতো তাকে টানা নো বল ডাকায় দল নিয়ে মাঠ থেকেই বের হয়ে গিয়েছিলেন অর্জুনা রানাতুঙ্গা। ক্যারিয়ারের একটা বড় সময় এই অনাকাংখিত ঘটনার জন্য মাঠের বাইরে না থাকলে, রেকর্ড বুকে আরও উচ্চতায় যেতে পারতেন ১৩৩ টেস্ট খেলা মুরালি।

বিশ্বের এমন কোন ব্যাটসম্যান নেই যে মুরালির বোলিংয়ের সামনে অন্তত একবার হলেও বোকা বনে যাননি। ক্যারিয়ারে শ্রীলংকার ক্রিকেটকে নিয়ে গেছেন অন্য রকম উচ্চতায়।

২০১১ সালে অবসরের পর খেলেছেন আইপিএল, বিগ ব্যাশ, সিপিএল, বিপিএলের মতো টি-টোয়েন্টির ঘরোয়া আসর গুলো। চূড়ান্ত অবসরের পর কাজ করছেন বোলিং কোচ হিসেবে।

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন