ভারতের সানি, ক্রিকেটের সানি

১৬ বছরের অপেক্ষা, ১২৪টি টেস্ট খেলা হয়ে গেছে, সোনার হরিন এসে এবার ধরা দিলো কিংবদন্তী ক্রিকেটার সুনিল গাভাস্কারের কাছে। ১৯৮৭ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেন এই ভারতীয় ক্রিকেট লিজেন্ড।

১০ জুলাই কিংবদন্তী ভারতীয় ক্রিকেটার সুনিল গাভাস্কারের জন্মদিন। সানি’র হাত ধরেই ভারতীয় ক্রিকেট পৌছায় অনন্য উচ্চতায়।

সুনীলের ব্যাট কথা বলতে শুরু করে স্কুল ক্রিকেট থেকেই। সেখানে দুটি ডাবল সেঞ্চুরির ইনিংস খেলে বোম্বের রঞ্জি ট্রফি দলে ডাক পান তিনি। আর তখনকার বোম্বে দলের হয়ে ১১৪ রানের দারুন এক ইনিংস উপহার দিলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দুয়ার খোলে গাভাস্কারের।

এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ১২৫টি টেস্ট খেলে করেছেন ১০ হাজার ১২২ রান। অপরাজিত ২৩৬ তার সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। গড় ৫১.২১। সর্বাধিক সেঞ্চুরির তালিকায় দীর্ঘদিন সবার ওপরে ছিলো গাভাস্কারের করা ৩৪টি সেঞ্চুরি।

সুনিল গাভাস্কারের অভিষেক টেস্টেই সেসময়ের পরাক্রমশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয় পায় ভারত। একইসঙ্গে সিরিজও জেতে তারা। সেই সিরিজে ৭৭৪ রান করে এক সিরিজে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েন গাভাস্কার।

১০৮টি ওয়ানডে খেলা গাভাস্কারের রান ৩ হাজার ৯২। গড় ৩৫.১৩। ওয়ানডেতে তার একটিই সেঞ্চুরি।

সানির নেতৃত্বে ৪৭টি টেষ্টে ৯টিতে জয় পেয়েছে ভারত আর ড্র করেছে ৩০টি ম্যাচে। তখন পর্যন্ত নবাব পাতৌদির পর এটিই ছিল ভারতের সেরা ক্যাপটেন্সির রেকর্ড। আবার এই অধিনায়কত্ব নিয়ে কপিল দেবের সঙ্গে গাভাস্কারের শীতল যুদ্ধ শুরু হয়।

১৯৮৭ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচ দিয়েই ৩৮ বছরের টেষ্ট ক্যারিয়ারের ইতি টানেন সানি। সে বছরের নভেম্বরে একদিনের ম্যাচ থেকেও অবসর নেন এই কিংবদন্তী।

খেলাটা রক্তে থাকার কারনেই কিনা অবসর নিলেও ক্রিকেট থেকে এতোটুকুও দুরে যেতে পারেননি সানি। আইসিসি কিংবা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে মাঝেমধ্যেই যুক্ত হন তিনি। আর নিয়মিতই থাকেন ক্রিকেটের কমেন্ট্রি বক্সে।

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন