‘বিশ্বকাপ আসছে’ – জানান দিচ্ছে কনফেডারেশন্স কাপ

কনফেডারেশন্স কাপ হলো ফিফা আয়োজিত একটি টুর্নামেন্ট যেখানে অংশ নেয় বিভিন্ন মহাদেশীয় টুর্নামেন্টের বিজয়ী দলগুলো। সঙ্গে থাকে সবশেষ বিশ্বকাপ জয়ী দল আর পরবর্তী বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশ। মোট আটটি দেশের এই টুর্নামেন্ট হয়ে থাকে বিশ্বকাপের ঠিক ১ বছর আগে।

এ বছরও অংশ নিচ্ছে ৮টি দল। এরা হলো স্বাগতিক দেশ রাশিয়া। আছে বিশ্বকাপ জয়ী দল জার্মানি। এশিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়া। নিজ মহাদেশ ছেড়ে এএফসিতে যোগ দেয়া সকারুরাই বর্তমান এশিয়ান কাপ চ্যাম্পিয়ন। রয়েছে কোপা আমেরিকা জয় করা দল চিলি। যে দলটি আর্জেন্টিনার স্বপ্ন ভেঙে, জায়গা করেছে এবারের আসরে। কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন মেক্সিকোর জন্য অনেকটাই নিয়মিত আসর এই কনফেডারেশন্স কাপ। রয়েছে ওশেনিয়া অঞ্চলের শিরোপাধারী নিউজিল্যান্ড। কাগজে কলমে সবচেয়ে দুর্বল দল তারাই। অদম্য সিংহ ক্যামেরুন এসেছে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। আর ইউরো জয়ী হিসেবে রয়েছে পর্তুগাল।

কনফেডারেশন্স কাপের মধ্য দিয়েই স্বাগতিক দেশ বুঝিয়ে দিতে চায় বিশ্বকাপের জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুতি। আর ফিফাও দর্শকদের মনে করিয়ে দেয়, বিশ্বকাপের আর বেশি দেরি নেই।

১৯৯২ সালে সৌদি আরবের উদ্যোগে চারটি মহাদেশের চ্যাম্পিয়ন দেশকে নিয়ে শুরু হয় কিং ফাহাদ কাপ যার আরেক নাম ছিলো কনফেডারেশন্স উইনার কাপ। ১৯৯৫ সালে কিং ফাহাদ কাপে দল বেড়ে হয় ৬টি।

১৯৯৭ সালের টুর্নামেন্টও সৌদি আরবে হয়। তবে আসরটির স্বত্ত্ব পুরোপুরি নিয়ে নেয় ফিফা। নামকরণ করা হয় ফিফা কনফেডারেশন্স কাপ। তখন থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত আসরটি হয়েছে দুই বছর পরপর। এরপর থেকে এটি হয়ে আসছে চার বছর পরপর।

১৯৯২ সালে কিং ফাহাদ কাপের শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। ১৯৯৫ সালে জেতে মেক্সিকো। ১৯৯৭ ফিফা কনফেডারেশন্স কাপে সেরা হয় ব্রাজিল আর ১৯৯৯ সালে জেতে মেক্সিকো। এরপর ২০০১ ও ২০০৩ সালে আসরটিতে চ্যাম্পিয়ন হয় ফ্রান্স। পরের তিনটি আসর ২০০৫, ২০০৯ ও ২০১৩ সালে শিরোপা জেতে ব্রাজিল।

অদ্ভুত বিষয় হলো, কনফেডারেশন্স কাপ জয়ী দলগুলো কখনো তার পরের বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। তাই এই কাপটি জিতুক এমনটা চান না অনেক সমর্থকই।

কোপা আমেরিকা কিংবা বিশ্বকাপ জিততে না পারায় বাংলাদেশের দুই দর্শকপ্রিয় দল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার কোনো দলই এবার খেলতে পারছে না।

যে আটটি দল অংশ নিচ্ছে তার মধ্যে একমাত্র মেক্সিকো আর আগে শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছে। এবার কোপা আমেরিকা জয়ী চিলিও স্বপ্ন দেখছে শিরোপা জয়ের। তবে একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি আসরের টপ ফেভারিট।

অবশ্য ক্রিশ্চিয়ানোর রোনালদোর পর্তুগালকেও পিছিয়ে রাখার উপায় নেই। ইউরো জয়ের স্মৃতি এখনও টাটকা রোনালদোদের।

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন