দুঃস্বপ্ন ও ট্র্যাজেডির রাত

ক্যারিয়ারের শেষ দৌড়টি দুঃস্বপ্নের মতো হলো উসাইন বোল্টের। লন্ডনে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অ্যাথলেটিক্স ইতিহাসের অন্যতম বড় ট্রাজেডির জন্ম দিয়ে দৌড়ের মাঝপথে ইনজুরি আক্রান্ত হয়ে বিদায় নেন এই কিংবদন্তী।

মাংসপেশীতে টান লাগায় দৌড় শুরুর কিছুক্ষণ পরই ট্র্যাকে পড়ে যান এই কিংবদন্তী। এমন একটি দৃশ্যের জন্য কেউই প্রস্তুত ছিলেন না। গ্যালারিতে কিংবা টেলিভিশনের সামনে বসে যারাই এই দৌড় দেখেছেন তারা সবাই আঁৎকে উঠেছেন, দুঃখ পেয়েছেন, আফসোস করেছেন। ট্র্যাকের রাজা উসাইন বোল্টের এমন বিদায় চাননি কেউই।

অথচ এই স্প্রিন্ট শুরুর আগে বেশ হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন বোল্ট। পুরো জ্যামাইকা দলকে উজ্জীবিত রাখতে দৌড় শুরুর আগে পর্যন্ত স্বভাবসুলভ মজা করে গেছেন তিনি।

জ্যামাইকার প্রথম তিনজনের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলো ব্রিটেন আর যুক্তরাষ্ট্রের। ইয়োহান ব্লেক এসে ব্যাটন তুলে দিলেন সবশেষ প্রতিযোগী বোল্টের হাতে। সামান্য পিছিয়ে তখন জ্যামাইকা। এর আগে বহুবার এমন ব্যবধান ঘুচিয়েছেন বোল্ট। কিন্তু এবার আর তা হলো না। যা হলো সেটি খেলার ইতিহাসের এক বড় ট্র্যাজেডি।

Bolt 3

যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে এই রিলে জিতে ব্রিটেন যে চমক দেখালো সেটিও ম্লান হয়ে গেলো এমন একটি ঘটনায়। ব্রিটেনের স্প্রিন্টাররা মোট সময় নিয়েছেন সাইত্রিশ দশমিক চার সাত সেকেন্ড। ব্রোঞ্জ পেয়েছে এশিয়ার দেশ জাপান।

বিজয়ীরা যখন উৎসবে ব্যস্ত তখন ট্র্যাকে পরিচর্যা চলছে বোল্টের। শেষ পর্যন্ত খুড়িয়ে খুড়িয়ে হেটে স্প্রিন্ট ট্র্যাক থেকে বিদায় নিয়েছেন উসাইন বোল্ট।

গত বছর রিও অলিম্পিক শেষে একবার চিন্তা করেছিলেন অবসর নেওয়ার। তবে তা না করে ক্যারিয়ার টেনে নিয়ে আসেন এবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে। কিন্তু বিদায় বেলাটা রাঙিয়ে দিতে পারলেন না ৩১ বছর বয়সী বোল্ট ।

Bolt 2

২০০৯ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত ৪টি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ আর ২০০৮ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ৩টি অলিম্পিকে একক আধিপত্য ছিলো উসাই বোল্টের। ১০০মিটার, ২০০মিটার কিংবা রিলে – এই তিনটি ইভেন্টে তার ধারে কাছেও যেতে পারেননি কেউই।

বিশাল ব্যবধানে সবাইকে পেছনে ফেলে আয়েশিভাবেও যে ১০০ ও ২০০ মিটার স্প্রিন্ট শেষ করা যায় সেটি প্রথম দেখিয়েছেন উসাইন বোল্ট।

নিশ্চিতভাবেই দর্শকরা মিস করবেন এই কিংবদন্তীকে। মিস করবেন জয়ের পর তার সেই অতি পরিচিত উদযাপন ভঙ্গি।

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন