আবেগী ম্যাচে বার্সেলোনার জয়

গত বছরের ২৮ নভেম্বর এক বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় ব্রাজিলের ফুটবল ক্লাব শাপেকোয়েন্সের ১৯ জন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের সবাই। ঘুড়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে যাওয়া এই দলকে অনুপ্রেরণা দিতেই হুয়ান গাম্পার ট্রফির প্রতিপক্ষ হিসেবে বার্সেলোনা বেছে নেয় শাপেকোয়েন্স ফুটবল ক্লাবকে। যে ক্লাবের তিন জন বেঁচে যান আট মাস আগের সেই ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায়।

ফলাফল: বার্সেলোনা ৫ -o শাপেকোয়েন্স (ভেন্যু: ন্যু ক্যাম্প)

সম্পূর্ণ নিজেদের চেষ্টায় আবারও একটি দল তৈরি করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে ক্লাবটি। এমন একটি দলকে উৎসাহর পাশাপাশি শ্রদ্ধা জানানোটাও বড় কাজ বলেই মনে করেছে বার্সা।

আবেগী এই ম্যাচের আগে তাই ছিলো নানারকম আয়োজন। বেঁচে যাওয়া সেই তিন ফুটবলার ডিফেন্ডার নেটো ও অ্যালান রাসেল এবং গোলরক্ষক জ্যাকসন ফলম্যান মাঠে নামেন শাপের জার্সি গায়ে। ফলম্যানের একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে। নেটো এখনও খেলার মতো ফিট নন। তবে অ্যালান রাসেল ইনজুরি কাটিয়ে পালন করছেন অধিনায়কের দায়িত্ব।

ম্যাচের কিক অফ করার সম্মাননা দেয়া হয় ফলম্যানকে। তার পাস থেকে নেটো বল ঠেলে দেন সতীর্থকে। এই দুজন ডাগআউটে চলে যাওয়ার পর শুরু হয় মাঠের খেলা।

পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাওয়া শাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে বার্সেলোনা বড় জয় পাবে সেটা অনুমিতই ছিলো। হলোও তাই। আধঘণ্টার মধ্যে তিন গোলে এগিয়ে যায় কাতালানরা। স্কোরশিটে নাম তোলেন দিলোফে, বুসকেটস ও লিওনেল মেসি।

দ্বিতীয়ার্ধে বার্সা তুলে নেয় আরও দুই গোল। একটি করেন লুই সুয়ারেয এবং শেষেরটি ডেনিস সুয়ারেয।

৫-০ গোলের জয় দিয়ে হুয়ান গাম্পার ট্রফি জেতে বার্সা। অন্যদিকে, হেরে গেলেও এই ম্যাচ থেকে উঠে আসা আড়াই লাখ ইউরোর পুরোটুকুই পেয়েছে শাপেকোয়েন্স।

ম্যাচ শেষে অ্যালান রাসেলের কণ্ঠে ছিলো আবেগ। “আজ যখন মাঠে নামলাম তখন মনে হলো সব যেনো সিনেমার চিত্রনাট্য। এমন একটি দুর্ঘটনা হবে। এরপর আমরা এভাবে ঘুরে দাড়াবো। খেলবো বার্সেলোনার সঙ্গে, সব কিছুই কেমন যেনো সিনেমার মতো। দুর্ঘটনায় যাদেরকে হারিয়েছি, তাদের কথা আমি কখনোই ভুলতে পারি না। এই অনুভূতিটা আপনাদের বোঝাতে পারবো না। সবাইকে ধন্যবাদ জানাই আমাদের পাশে থাকার জন্য।”

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বার্সেলোনা কোচ আর্নেস্টো ভালভের্দেকে উত্তর দিতে হয় নেইমার সংক্রান্ত সব প্রশ্নের। “নেইমার বার্সেলোনার অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ছিলো। কিন্তু সেতো এখন নেই। আগে সে এই ক্লাবের জন্য কি করেছে সেটা নিয়ে পড়ে থাকার উপায় নেই। আমাদের সামনে তাকাতে হবে। সবাইকে বলছি, নেইমার চলে যাওয়ায় আমাদের যদি কোনো সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে সেই সমস্যার সমাধানও রয়েছে।”

আগামী ১৩ই আগস্ট রাতে স্প্যানিশ সুপার কাপের প্রথম লেগে রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা।

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন